Wellcome to National Portal
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৫ জুলাই ২০২২

উদ্ভিদরোগ নির্ণয় সেবা

বিশ্বব্যাপী ফসলহানি ও এসংক্রান্ত অর্থনৈতিক ক্ষতির অন্যতম একটি কারণ হল উদ্ভিদের জীবাণুঘটিত বিভিন্ন রোগ। সঠিক সময়ে বা প্রাথমিক পর্যায়ে সুনির্দিষ্টভাবে রোগের জীবাণু সনাক্তকরণ সম্ভব হলে রোগ ব্যবস্থাপনা কৌশল অধিকতর কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, বীজ বা চারায় রোগসংক্রমণ পরীক্ষা করে কেবল নীরোগ বীজ ব্যবহার করা হলে ফসলের বৃদ্ধির পরবর্তি পর্যায়ে রোগের সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে শুধু মানসম্পন্ন সার্টিফায়েড নীরোগ বীজই ফলন বৃদ্ধিতে ১০-১৫% পর্যন্ত অবদান রাখতে পারে। এজন্য সঠিক ও সুক্ষ্ণ রোগ-নির্ণয় পদ্ধতির ব্যবস্থা আধুনিক কৃষির অপরিহার্য হাতিয়ার।

রোগ নির্ণয়ের প্রথাগত লক্ষণ/কালচার-ভিত্তিক পদ্ধতিগুলি সময়সাপেক্ষ এবং যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য নয়। এছাড়া লক্ষণভিত্তিক সনাক্তকরণ রোগের সূত্রপাতের দীর্ঘ সময় পরে রোগজীবাণু সনাক্ত করে। ফলে রোগ-নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবস্থাপনায় তা প্রায়ই তেমন কাজে আসে না।

উদ্ভিদ রোগ নির্ণয়ের জন্য আধুনিক মলিকুলার পদ্ধতিগুলি অত্যন্ত সুক্ষ্ণ, সংবেদনশীল, নির্ভুল এবং দ্রুত। অত্যন্ত সামান্য পরিমান নমুনা থেকেও এবং খুব অল্প মাত্রায় থাকা জীবাণুর উপস্থিতি সনাক্ত করা যায়। এছাড়া এ পদ্ধতি লক্ষণবিহীন রোগ সনাক্ত করতেও সমান কার্যকর। এজন্য উদ্ভিদ রোগ নির্ণয়ে মলিকুলার পদ্ধতি ক্রমশ জনপ্রিয় পদ্ধতি হয়ে উঠেছে। "জাতীয় জীবপ্রযুক্তি নীতির কর্মপরিকল্পনা ২০১২" -এ মলিকুলার পদ্ধতিতে উদ্ভিদরোগ নির্ণয়কে অন্যতম অগ্রাধিকার কার্যক্রম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন (পিসিআর), রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন পিসিআর, এলাইজা প্রভৃতি আধুনিক মলিকুলার পদ্ধতি এ কাজে ব্যবহার করা যায়। মলিকুলার বায়োলজির এ সকল টুলসগুলিকে ফলিত কাজে ব্যবহার উপযোগী করে তোলা (যেমন: বীজ পরীক্ষা) বিজ্ঞানীদের কাছে একটি চ্যালেঞ্জ। এনআইবি'র বিজ্ঞানীরা প্ল্যান্ট মলিকুলার প্যাথলজি বিষয়ে গবেষণা করে আসছেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে দেশে উন্নতমানের বীজ আলু উৎপাদনসহ রপ্তানীখাতকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে আলুর রোগ সনাক্তকরণ সেবা চালু করা হয়েছে।

 

 

বর্তমানে চালু সেবা

১. আলুর ভাইরাসজনিত রোগ নির্ণয় (PLRV, PVS, PVX, PVY)

২. আলুর ব্যাকটেরিয়াল উইল্ট এর জীবাণু (Ralstonia solanacearum) এর উপস্থিতি নির্নয়

 

 

টেষ্টিং পদ্ধতি ও বিশেষত্ব

এনআইবি-তে ভাইরাস সনাক্তকরণের জন্য আরটি-পিসিআর পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতি প্রচলিত এলাইজা পদ্ধতির তুলনায় অধিকতর সুক্ষ্ণ, সংবেদনশীল এবং নির্ভুল। এছাড়া এলাইজা কিটের তুলনায় আরটি-পিসিআর এর রিএজেন্ট সহজলভ্য হওয়ায় দ্রুত সেবা প্রদান করা সম্ভব হয়। Ralstonia solanacearum এর উপস্থিতি নির্ণয় পিসিআর পদ্ধতিতে করা হয়।

 

 

সেবাগ্রহীতা

সার্টিফায়েড বীজ আলু উৎপাদনের জন্য বীজ উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের এই সেবা বেশি দরকার হয়। কারণ বীজ আলু উৎপাদনের প্রাথমিক পর্যায়ে ভাইরাস রোগের অনুপস্থিতি নিশ্চিত করার দরকার হয়। এছাড়া কৃষি পণ্য রপ্তানীকারক, মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা, শিক্ষক ও গবেষকগণেরও এরূপ সেবার প্রয়োজন হয়ে থাকে।

 

 

সেবার জন্য নির্ধারিত সময়

নমুনা হাতে পাবার পর ৫-১০ কর্মদিবস (নমুনার সংখ্যা অনুসারে)।

 

 

সার্ভিস চার্জ

 

১. আলুর ৪ টি ভাইরাস (PLRV, PVS, PVX, PVY) এর উপস্থিতি নির্ণয়: প্রতিটি নমুনা ১৫০০ টাকা

২. আলুর ব্যাকটেরিয়াল উইল্ট এর জীবাণু (Ralstonia solanacearum) নির্ণয়: প্রতিটি নমুনা ১০০০ টাকা

 

নমুনা

নমুনা হিসেবে ইন ভিট্রো প্ল্যান্টলেট, পাতা ও কান্ড অথবা টিউবার ব্যবহার করা যায়।

 

 

 

উদ্ভিদ রোগ নির্ণয় সেবা কিভাবে পাওয়া যাবে

 

ধাপ-১ আবেদন: এই লিংকে ক্লিক করে অনলাইনে সেবার আবেদন করুন। আবেদন সাবমিট করলে আবেদনকারী তার ইমেইলে একটি নিশ্চিতকরণ বার্তা পাবেন সেখানে নমুনার সংখ্যা ও সেবার ধরণের উপর ভিত্তি করে মুল্য পরিশোধ ও নমুনা প্রেরণ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়া থাকবে।

 

ধাপ-২ সেবার মুল্য পরিশোধ: সেবার জন্য ধার্য্য মুল্য এনআইবি'র নির্ধারিত ব্যাংক একাউন্টে জমা প্রদান করতে হবে। সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় গিয়ে নগদ জমা প্রদান করা যেতে পারে। এছাড়া ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার এর মাধ্যমেও এটি করা যেতে পারে।

 

ধাপ-৩ নমুনা প্রেরণ: টেষ্টিং এর জন্য নমুনা সরাসরি এনআইবি অফিসে জমা দেয়া যায়। এছাড়া কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমেও নমুনা প্রেরন করতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে সে কুরিয়ার সার্ভিস আপনার নমুনা এনআইবি তে পৌঁছে দেবে। যদি কুরিয়ার সার্ভিস অফিস থেকে আমরা আপনার নমুনা সংগ্রহ করি তাহলে অতিরিক্ত ৫০ টাকা সার্ভিস চার্জ প্রদান করতে হবে।

 

ফলাফল প্রেরণ

পরীক্ষা শেষে ইমেইলে ফলাফল প্রেরণ করা হবে। কেউ চাইলে কাগজে প্রিন্টেড কপিও দেয়া হয়।

 

 

স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন

“পিসিআর পদ্ধতিতে আলুর রোগ নির্ণয় সংক্রান্ত সেবা সম্পর্কে অংশীজনদের অবহিতকরণ” শীর্ষক একটি সেমিনার ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে গত ৩০ নভেম্বর, ২০২১ তারিখে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজিতে অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি’র মহাপরিচালক ড. মো. সলিমুল্লাহ, ড. জাহাঙ্গীর আলম, চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার ও প্রকল্প পরিচালক, জাতীয় জীন ব্যাংক স্থাপন প্রকল্প, এনআইবি’র গবেষণা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান/বিভাগীয় ইনচার্জগণ, এপিএ ফোকাল পয়েন্ট, শুদ্ধাচার ফোকাল পয়েন্ট এবং এনআইবি’র সংশ্লিষ্ট গবেষকবৃন্দ। উক্ত সেমিনারে বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং এনআইবির কর্মকর্তাগণ সহ মোট ৪০ জন প্রতিনিধি ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে সংযুক্ত হন। অনুষ্ঠান আয়োজনে ছিলেন প্ল্যান্ট বায়োটেকনোলজি বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বিভাগীয় প্রধান জনাব শামিমা নাছরীন এবং উপস্থাপনায় ছিলেন জনাব হাবিবুন নবী ফরহাদ, সেমিনার কোঅর্ডিনেটর ও বিভাগীয় ইনচার্জ, প্রশিক্ষণ বিভাগ।

প্ল্যান্ট বায়োটেকনোলজি বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ইফতেখার আলম “পিসিআর পদ্ধতিতে আলুর রোগ নির্ণয়” শিরোনামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিন ঘন্টাব্যাপি অনুষ্ঠিত সেমিনারে সেবা সংক্রান্ত গবেষণা কার্যক্রম উপস্থাপনা এবং সেবার মান ও কার্যপরিধি উন্নয়নে মতামত বিনিময় করা হয়। চলতি সেবা প্রদানে স্টেকহোল্ডারগণের অভিমতের প্রতিফলন রয়েছে।

 

স্টেকহোল্ডার মিটিং এ স্থানীয়ভাবে এবং ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে যুক্ত পলিসি মেকার, নিয়ন্ত্রক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট গবেষকবৃন্দ

 

 

 

বীজে জীবাণুর উপস্থিতি আলুর ফলনে কতটা প্রভাব ফেলে?

 

আলুতে প্রায় ৫০ ধরনের ভাইরাস সংক্রমণের তথ্য জানা যায়। ভাইরাসের আক্রমণে আলুর ফলন কমে যায়। তবে সকল ভাইরাস সমান ক্ষতিকর নয়। ভাইরাস জনিত ফসলহানি স্থান-কাল-ভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে।

পিএলআরভি এবং পিভিওয়াই এর সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে থাকে। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় পিএলআরভি-এর কারণে আলুর ফলন ৮০% পর্যন্ত কমে যেতে পারে । পিভিএক্স অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাইরাস যার আক্রমণে ফলন ১০ থেকে ৪০ ভাগ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এছাড়া একাধিক ধরনের ভাইরাসের মিশ্র সংক্রমণের ফলে ফসলহানির মাত্রা অনেক বেশি হয়ে থাকে। পিভিএস এবং পিভিএম বিশ্বব্যাপী পাওয়া গেলেও ফলন এর ওপর এর প্রভাব খুব একটা তাৎপর্যপূর্ণ নয় যদি না এটি অন্য ভাইরাসের সাথে মিশ্র অবস্থায় থাকে।

ফলন ছাড়াও উৎপাদিত আলুর মান এই সকল রোগ সংক্রমণের কারণে কমে যায়। টিউবারের বাহ্যিক বা আভ্যন্তরীণ টিস্যু ক্ষতিগ্রস্থ (নেকরোসিস) হয়। এরূপ ক্ষেত্রে আলুর বাজারমুল্য কমে যায়, শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহার উপযোগী থাকে না। এতে চাষিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। আলু বাংলাদেশের প্রধান সবজি বলে এর ফলনের সাথে দেশের খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত।

 

Ralstonia solanacearum (Pseudomonas solanacearum) নামক ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণে আলুতে ব্যাক্টেরিয়াল উইল্ট বা ব্রাউন রট রোগ দেখা দেয়। মাটিতে বসবাসকারী এই জীবাণু আলুর টিউবার, শেকড় ও কান্ডে সংক্রমণ ঘটায়। এর উল্লেখযোগ্য লক্ষণের মধ্যে রয়েছে ঢলে পড়া, হলুদ হয়ে যাওয়া, গাছ খাটো হয়ে যাওয়া, গাছ করে যাওয়া প্রভৃতি। বেশ কিছু দেশে আলু রপ্তানীর জন্য এই জীবাণুর অনুপস্থিতি নিশ্চিত করতে হয়।

 

রোগাক্রান্ত আলুক্ষেতের একাংশ। ছবিগুলি রংপুর থেকে তোলা।

 

 

 

 

 

উদ্ভিদরোগ নির্ণয় সেবা বিষয়ে যোগাযোগ

 

ড. ইফতেখার আলম

এস এস ও, প্ল্যান্ট বায়োটেকনোলজি বিভাগ

ন্যাশনাল ইনিস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি

গণকবাড়ী, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা-১৩৪৯

ফোন: +৮৮ ০১৭ ৭৯১৯ ৮০৩৫

ইমেইলঃ iftekhar@nib.gov.bd

বিকল্প ইমেইলঃ <ifte.Alam@gmail.com>

 

 

তথ্যসুত্রঃ

Kreuze JF, Souza-Dias JA, Jeevalatha A, Figueira AR, Valkonen JP, Jones RA. Viral diseases in potato. InThe potato crop 2020 (pp. 389-430). Springer, Cham.

 

 

#Potato disease detection services, viral diseases of potato

 

 



Share with :

Facebook Facebook